
হাম সংক্রমণ কিছুটা কমলেও শিশুদের মধ্যে রোগ-পরবর্তী জটিলতা বাড়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে। চিকিৎসকদের মতে, হাম সেরে যাওয়ার পরও শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকায় নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা সংক্রমণ দ্রুত জটিল আকার নিচ্ছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) আন্তর্জাতিক ও স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হাম আক্রান্ত শিশুর শরীরে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ইমিউন সিস্টেম দুর্বল থাকে। এ সময় ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ সহজেই আক্রমণ করে, ফলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকর হচ্ছে না। হাম সেরে যাওয়ার পরও শিশুদের শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এবং অন্যান্য সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। অপুষ্টি এই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
পুষ্টিবিদদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বড় একটি অংশের শিশু পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার পায় না। এ কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও কমে যায়। একই সঙ্গে ভিটামিন এ ও জিংকের ঘাটতিও শরীরকে দুর্বল করে দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থাকলেও কিছু শিশু এখনো টিকার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে বড় একটি অংশের মধ্যে। পাশাপাশি সঠিক সময়ে ভিটামিন এ গ্রহণ না করা এবং দীর্ঘ সময় বুকের দুধ না পাওয়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম শুধু ত্বকের রোগ নয়, এটি পুরো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলে। ফলে পরে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ নানা জটিলতা দীর্ঘমেয়াদে শিশুদের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, হাম পরবর্তী সময়ে শিশুদের বিশেষ যত্ন, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা