
তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনে পা রাখতেই ইরান সংকট নিয়ে বড় ধরনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) দেশে ফেরার পরপরই তেহরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউজে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত সামরিক শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নেন, তবে ইরানের ওপর পুনরায় বিমান হামলা (এয়ার স্ট্রাইক) শুরু করার একটি সুনির্দিষ্ট যুদ্ধ পরিকল্পনা তৈরি করছেন তাঁর শীর্ষ সামরিক ও কৌশলগত উপদেষ্টারা।
হরমুজ প্রণালি খোলার চেষ্টা ও ট্রাম্পের অনমনীয়তা
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ যাতে পুনরায় সচল করা যায়, সে লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সমান্তরালভাবে কূটনৈতিক মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক বা রাজনৈতিক সাফল্য যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের ঝুলিতে পুরতে পারেন। তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের এই সমঝোতার চেষ্টার মধ্যেও তেহরানের প্রতি নিজের কঠোর ও অনমনীয় অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরেননি ট্রাম্প।
চীন সফর শেষে দেশে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটিকে পাত্তাই দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি প্রস্তাবটি দেখেছি। প্রথম বাক্যটাই যদি আমার পছন্দ না হয়, তাহলে আমি সেটি সরাসরি ফেলে দিই।’
শি জিনপিংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
এনডিটিভির তথ্যসূত্র অনুযায়ী, তিন দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে গত বুধবার (১৩ মে) এশিয়ান পরাশক্তি চীনে গিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দুই দিনে দুই দফা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। দুই বিশ্ব নেতার মধ্যকার সেই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক বিষয়ের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও ইরান সংকট বিশেষভাবে স্থান পায়।