
ক্রীড়াঙ্গনে অপরাধচক্রের কালো ছায়ার এক ভয়ঙ্কর নজির সামনে এলো কানাডায়। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের (ক্রিকেট কানাডা) নবনির্বাচিত সভাপতি আরভিন্দর খোসার ব্যক্তিগত বাসভবন নিশানা করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেছে একদল অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত। তবে এই আকস্মিক ও কাপুরুষোচিত হামলায় অলৌকিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বুধবার (২০ মে) স্থানীয় সময় ভোরের দিকে কানাডার সারের নিউটন এলাকায় অবস্থিত খোসার নিজ বাড়িতে এই দুর্ধর্ষ হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি (CBC)।
হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ক্রিকেট কানাডার নবনিযুক্ত সভাপতি আরভিন্দর খোসা জানান, নিউটন এলাকায় অবস্থিত তাঁর বাসভবন লক্ষ্য করে এই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। উল্লেখ্য, সম্প্রতি আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অধীনে অনুষ্ঠিত একটি জমজমাট নির্বাচনের মাধ্যমে বিদায়ী সভাপতি আমজাদ বাজওয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে ক্রিকেট কানাডার সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন খোসা।
অল্পের জন্য রক্ষা পেল পরিবার, মিলেছে ৫টি গুলির চিহ্ন
স্থানীয় সারে পুলিশ জানিয়েছে, যখন অপরাধীরা ভবনে অতর্কিত গুলি চালায়, তখন বাড়ির ভেতরে আরভিন্দর খোসা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তবে সৌভাগ্যবশত তাঁদের কেউ বুলেটবিদ্ধ বা আহত হননি। গুলির শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা খবর দিলে স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছায়।
সংবাদমাধ্যম সিবিসির সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরভিন্দর খোসার বাড়ির মূল প্রবেশদ্বার, জানালার কাচ এবং বাইরের সীমানা দেওয়ালে অন্তত পাঁচটি বুলেটের গভীর চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। সারে কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে; তবে প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখে এই গুলিবর্ষণের ঘটনাটি একটি বড় ধরনের ‘চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত’ অপরাধের অংশ বলে তীব্র সন্দেহ করা হচ্ছে।
তদন্তের একটি চাঞ্চল্যকর দিক উল্লেখ করে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল মুখপাত্র সিবিসির বিখ্যাত অনুসন্ধানমূলক অনুষ্ঠান ‘ফিফথ এস্টেট’কে দেওয়া একটি অফিসিয়াল ই-মেইলে সরাসরি বলেন, ‘যে বাসভবনে গুলি চালানো হয়েছে, তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তি আগে থেকেই চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত হুমকি পাচ্ছিলেন।’
কানাডিয়ান ক্রিকেটে আন্ডারওয়ার্ল্ড ও বিষ্ণোই গ্যাংয়ের থাবা
এই ঘটনার পর কানাডার ক্রিকেট প্রশাসনের ভেতরে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র বা আন্ডারওয়ার্ল্ডের গভীর সংযোগ থাকার পুরোনো অভিযোগগুলো নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে খোদ সিবিসিরই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, ভারতের কুখ্যাত আন্তর্জাতিক অপরাধী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সাথে সরাসরি জড়িত কিছু সক্রিয় সদস্য বিগত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে কানাডার ক্রিকেট অঙ্গনের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও সদস্যকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল।
নতুন সভাপতির বাড়িতে এই হামলার পর ধারণা করা হচ্ছে, সেই সিন্ডিকেটের দাবিদাওয়া না মানার কারণেই হয়তো এই ক্ষমতার প্রদর্শন ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আরভিন্দর খোসার বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে কানাডিয়ান গোয়েন্দারা।