
যুক্তরাজ্যের সামরিক ইতিহাসে এক অপূরণীয় ও হৃদয়বিদারক অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে নিয়মিত মহড়া চলাকালীন রয়্যাল নেভির একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় দেশটির একমাত্র সক্রিয় নারী কমান্ডো লিলি-মে ফিশারসহ তিনজন আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্মান্তিক নিহতের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
রয়্যাল নেভির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ অভিযানের অংশ হিসেবে একটি ‘মারলিন এমকে ৪’ (Merlin Mk4) মডেলের হেলিকপ্টার নিয়ে উড্ডয়নের পর সেটি আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়। ব্রিটিশ নৌবাহিনী নিহত লিলি-মে ফিশারকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘দেশের একমাত্র সেবারত নারী রয়্যাল নেভি কমান্ডো’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত গৌরবময় ও কঠিনতম পথ পাড়ি দিয়ে ২০২২ সালে নিজের গ্রিন বেরেট অর্জন করেছিলেন ফিশার। অনন্য এই কৃতিত্ব অর্জনের জন্য চূড়ান্ত পরীক্ষার অংশ হিসেবে তাঁকে পিঠে ভারী ওজন নিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ম্যারাথন মার্চ বা পদযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করতে হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিগত ২০০১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত মাত্র ১৭ জন নারী এই বিশ্বখ্যাত ও দুঃসাধ্য কমান্ডো প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফিশারসহ মাত্র ৭ জন নারী সফলভাবে সব ধাপ পেরিয়ে গ্রিন বেরেটধারী কমান্ডো হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পেরেছেন।
নৌবাহিনী আরও প্রকাশ করেছে যে, ফিশার তাঁর দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ পর্বের ফ্লাইট মূল্যায়ন পরীক্ষার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হন। অত্যন্ত মেধাবী এই সেনা কর্মকর্তার চলতি মাসেই (জুন) অফিশিয়ালি হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে চূড়ান্ত যোগ্যতা সনদ পাওয়ার কথা ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, একই আকাশ দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুজন রয়্যাল নেভি সদস্যও ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
পেশাগত জীবনের বাইরেও লিলি-মে ফিশার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে ফটো শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে তাঁর ৪৫ হাজারেরও বেশি অনুসারী বা ফলোয়ার ছিল। সেখানে তিনি সশস্ত্র বাহিনী ও যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, প্রতিকূলতা এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত নারী সৈনিকদের ঋতুস্রাবকালীন (পিরিয়ড) নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জ ও তা মোকাবিলার উপায় নিয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক আলোচনা করতেন।
এই বীর নারী কমান্ডোর অকাল প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, লিলি-মে ফিশার অগণিত মানুষের জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণার নাম ছিলেন, বিশেষ করে তরুণীদের সামরিক বাহিনীতে যোগ দিয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে তিনি সবসময় সাহস জুগিয়েছেন।