
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা ভয়াবহভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে এবং কয়েক কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি ইতোমধ্যে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৫ জুন) জেনেভা থেকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানায়, যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ওপর। সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি ছয় মাস স্থায়ী হলে লাখ লাখ মানুষ তাদের মানবিক সহায়তাও হারাতে পারে।
ডব্লিউএফপি’র পূর্ববর্তী সতর্কতায় বলা হয়েছিল, জ্বালানি তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকলে বিশ্বজুড়ে আরও প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নতুন করে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। এর ফলে আগে থেকেই খাদ্যনিরাপত্তাহীন অবস্থায় থাকা প্রায় ৩২ কোটি মানুষের সংকট আরও গভীর হবে।
সংস্থাটির খাদ্য ও পুষ্টি বিশ্লেষণ বিভাগের পরিচালক জ্যাঁ-মার্টিন বাউয়ার জানান, যে ঝুঁকি আগে পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হয়েছিল, তা এখন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। তাঁর ভাষায়, চলমান সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের কারণে চাল ও গমসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, যা নিম্নআয়ের দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলছে।
ডব্লিউএফপি আরও জানায়, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা ব্যবস্থাও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। তহবিল সংকটের কারণে অনেক অঞ্চলে সহায়তা কার্যক্রম সীমিত হয়ে এসেছে, ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
সংস্থাটি সোমালিয়ার উদাহরণ টেনে বলেছে, বছরের শেষ নাগাদ সেখানে আরও প্রায় ২৫ লাখ মানুষ ন্যূনতম খাদ্য চাহিদা পূরণে অক্ষম হয়ে পড়তে পারে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬০ শতাংশ পরিবার মৌলিক খাদ্য নিরাপত্তার বাইরে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি ২০২২ সালের বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের পুনরাবৃত্তির মতো হলেও এবার প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে, কারণ মানবিক সহায়তা কাঠামো আগের মতো শক্ত অবস্থানে নেই।
ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে তাদের পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ কম মানুষকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। আর সংঘাত ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হলে অন্তত ৯০ লাখেরও বেশি মানুষ মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।