
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। আকস্মিক এই হামলায় শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমে আগুন ধরে যায়।
সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য জানায়।
হামলার সময়টি ছিল এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেন। ওই আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মস্কোর পক্ষ থেকে কিয়েভে বড় ধরনের বিমান হামলা চালানো হয়।
এর আগে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করে, তারা রাশিয়ার জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রোববার ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল স্থাপনায় আঘাত হানে বলে জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ওই স্থাপনাটি মস্কোর জ্বালানি মজুত ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।’ একই সঙ্গে তিনি তুলা অঞ্চলের আজট রাসায়নিক কারখানায়ও হামলার দাবি করেন।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে এসব হামলার বিষয়টি আংশিকভাবে স্বীকার করা হয়েছে। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একটি শিল্প খাতের জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে মস্কোগামী সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। অন্যদিকে তুলা অঞ্চলের গভর্নর জানান, আকাশ প্রতিরক্ষায় ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ নোভোমস্কভস্ক শহরের একটি কারখানায় পড়ে ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ইউক্রেনের দাবি, তারা রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে লজিস্টিকস ও সামরিক সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতেও একযোগে হামলা চালিয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। ক্রেমলিন জানায়, ফোনালাপে ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন এবং ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও আলোচনা হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও জানান, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। কিয়েভের পক্ষ থেকে বলা হয়, আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।