
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের পরও পারমাণবিক ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান কঠোর রাখার কথা জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ইমাম মোজতবা খামেনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সব শর্ত ভবিষ্যৎ আলোচনায় মেনে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৬০ দিনের আলোচনায় বসার অর্থ এই নয় যে তেহরান তাদের সব শর্ত মেনে নেবে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মোজতবা খামেনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বা সরাসরি আলোচনা হলেও তা শত্রুপক্ষের অবস্থান মেনে নেওয়ার সমান নয়।’
তিনি জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আলোচক দলের একাধিক আশ্বাসের ভিত্তিতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে অনুমোদন দেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার ভিন্ন মত ছিল। খামেনির ভাষায়, ‘জাতীয় স্বার্থ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের অধিকার রক্ষার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের কারণে আমি অনুমতি দিয়েছি।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই বলেন, ইরানের পারমাণবিক উপকরণ দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। তবে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় ইউরেনিয়াম ডিলিউশন বা নিম্নমাত্রায় সমৃদ্ধকরণের বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান আলোচনার দরজা খোলা রাখলেও পারমাণবিক কর্মসূচি ও জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে চার মাস ধরে চলা সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে সার্ভিস ফি-সহ বিভিন্ন জটিল বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সুইজারল্যান্ডের বুরগেনস্টক রিসোর্ট এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রাথমিক বৈঠক হতে পারে। সেখানে সমঝোতা বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা থাকলেও চুক্তি সই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জেনেভায় তার সফর স্থগিত করছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার।
প্রসঙ্গত, পূর্বের সংঘাত প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনেভা শহরে আলোচনা চলাকালে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক হামলা চালায় ইরান।
পরবর্তীতে ইরানের প্রস্তাবের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার প্রক্রিয়া এগোয়। সর্বশেষ সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই পক্ষ ৬০ দিনের আলোচনায় সম্মত হয় এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে শর্তসাপেক্ষ সমঝোতার কথা জানানো হয়।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ওই সংঘাতে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারীসহ মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন। এছাড়া ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।