
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে আয়োজিত সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তিনি কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি ‘ক্যানসারের মতো’, যা শুরুতেই নির্মূল করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘আমেরিকানদের স্বপ্ন আবার ফিরে এসেছে।’
শনিবার (৪ জুলাই) রাতে দেওয়া প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “কমিউনিজম একটি ব্যর্থ মতবাদ। এটি সব সময়ই ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত।”
তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের হুমকি আমরা শুরুতেই থামাতে চাই। এটি ক্যানসারের মতো। তাই শুরুতেই দ্রুত এটি কেটে ফেলতে হবে।”
ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস এবং সংবিধানে নিশ্চিত করা বাক্স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমান অধিকারের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই তার স্বাধীনতা ও মৌলিক মূল্যবোধ বিসর্জন দেবে না।
নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, দেশ এখন একটি নতুন ‘সুবর্ণ যুগের’ দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী হবে।
ভাষণে তিনি ‘সেইভ আমেরিকা’ আইন পাসের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, ভোট দিতে হলে নাগরিকত্বের প্রমাণ ও পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথাও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার অধিকার বহাল রাখে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভাষণের শেষ দিকে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা একটি নতুন সুবর্ণ যুগের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, আর এই ভবিষ্যৎ ঈশ্বর নির্ধারণ করেছেন।” এরপর ‘গড ব্লেস আমেরিকা’ বলে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
ট্রাম্পের ভাষণ শেষে ন্যাশনাল মলের পাশে অবস্থিত মার্কিন ক্যাপিটল ভবন এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য আতশবাজির প্রদর্শনী শুরু হয়। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও প্রায় ৪০ মিনিট ধরে চলা এ আয়োজন আলোকিত করে তোলে ওয়াশিংটন ডিসির আকাশ। আয়োজকরা এটিকে বিশ্বের বৃহত্তম আতশবাজির প্রদর্শনীগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন।