
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে স্পেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বন্ধ করে দেওয়া হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, তিনি অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেনকে তিনি ‘ভয়ানক অংশীদার’ বলেও উল্লেখ করেন।
জানা গেছে, গত মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি স্পেন। শুধু তাই নয়, মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য দেশটির আকাশসীমাও বন্ধ রাখা হয়েছিল। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলনে বক্তব্যের সময় ইরানের সঙ্গে পূর্ববর্তী সমঝোতা চুক্তির বিষয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি এখন শেষ হয়ে গেছে।"
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ সামরিক অভিযানে ইরানের ৮০টি নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা।
সেন্টকম আরও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমাতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও আঘাত হানা হয়েছে।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সেন্টকম। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপে আবারও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।