
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টিতে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩৪ জন। পাহাড়ধসে একাধিক আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ার পাশাপাশি এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে চংকিং শহরের উপকণ্ঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর গড়িয়ে নিচের বসতিগুলোর ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পেংশুই কাউন্টির মেয়র রেন শুজিয়াং জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
দুর্ঘটনার পরপরই প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার এবং ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন বলেন, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরটির আয়তন ছিল প্রায় ৩ হাজার ঘনমিটার। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারী বৃষ্টিপাত অথবা দীর্ঘ সময়ের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়ে গেছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দুর্ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৮০০ জনের বেশি কর্মী অংশ নিচ্ছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলাকালেই বড় আকারের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে আবাসিক এলাকার ওপর পড়ে যেতে দেখা গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণেই এ ভূমিধসের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল উজিয়াং নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত, যেখানে ছোট ছোট জনপদ ও কৃষিজমি রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ইতোমধ্যে ১৩ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। এসবের মধ্যে তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা এবং জরুরি পারিবারিক সহায়তা কিট রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিসিটিভি, সিনহুয়া, চংকিং ডেইলি
রেডফ্ল্যাগ শব্দ: নেই