
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছে স্পেন। মাঠের এই মহাসাফল্যের পর স্প্যানিশদের আনুষ্ঠানিকভাবে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান।
সোমবার (২০ জুলাই) তেহরান থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই শুভেচ্ছা বার্তা দেওয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, স্পেনের এই শিরোপা জয় বিশ্বজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলবিরোধী স্বাধিকারকামী বিপুল জনগোষ্ঠীকে আনন্দ ও উদ্দীপনায় ভাসিয়েছে।
মূলত গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আগ্রাসনের জোরালো প্রতিবাদ এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের সরাসরি সমালোচনা করার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছিল স্পেন সরকার ও স্প্যানিশ ফুটবল দল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার বিরুদ্ধেও অনড় অবস্থান নিয়েছিল দেশটি।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরাসরি ইসরায়েলের নীতিগুলোর পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছিলেন একাধিক ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ ও তাদের অনুসারীরা। তবে রোববারের টানটান উত্তেজনার ফাইনালে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির মাঠে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোল ব্যবধানে পরাস্ত করে বিশ্বমঞ্চের ট্রফি নিজেদের করে নেয় স্পেন।
এই ঐতিহাসিক জয়ের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা 'আইআরএনএ'-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন,
‘ফিলিস্তিনিদের পক্ষে খেলোয়াড়দের অবস্থান এবং ইরানের প্রতি স্পেনের সমর্থন প্রমাণ করে যে স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদা সেই (স্পেন) বুদ্ধিমান ও সম্মানীয় জাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।’
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আরও যোগ করে বলেন,
‘এই জয় কেবল স্পেনের জনগণের হৃদয়কেই স্পর্শ করেনি, বরং বিশ্বের বহু স্বাধীন, সার্বভৌম ও ন্যায়বিচারকামী মানুষের হৃদয়কেও আনন্দিত করেছে।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও স্পেনের প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি মন্তব্য করেন,
‘সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আগ্রাসন, গণহত্যা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে স্পেনের সার্বিক অবস্থান এবং তাদের জাতীয় ফুটবল দলের আচরণ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মূল্যবান ছিল।’