
ইরানে টানা ১১তম দিনের মতো সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার, ২২ জুলাই ভোরে রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানের তীব্রতা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এদিকে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসকান্দার মোমেনি সম্প্রতি পাকিস্তান সফরে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে ইসলামাবাদ মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও নতুন কোনো সমঝোতার অগ্রগতি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি।
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কোনো আগ্রহ নেই’। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশের এলাকাও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তেহরানের পাশাপাশি বুশেহর, পূর্ব আজারবাইজান, হামাদান, হরমুজগান, খুজেস্তান এবং সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর আশপাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছে।
এর আগের দিন হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর জাহাজটির নাবিকরা সেটি ত্যাগ করতে বাধ্য হন। একই সময়ে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েত থেকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানের পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারে পৌঁছেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। তবে পেন্টাগনের সর্বশেষ আনুষ্ঠানিক হিসাবে আহতের সংখ্যা ৪৮২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে লোহিত সাগরে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের দাবি, তাদের সতর্কবার্তার পর ছয়টি জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করেছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে ব্রিটিশ ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমান উপকূলসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সেন্টকমের দাবি, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী আটটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি জাহাজ অচল হয়ে পড়েছে।