
ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে ভয়াবহ বন্যা আরও বিস্তৃত হয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ হারিয়েছেন ২১ জন। এতে গত এক সপ্তাহে বন্যাজনিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৬৪ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই দিবাগত রাতে প্রকাশিত এক বুলেটিনে এসব তথ্য জানিয়েছে আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ)।
এর আগে ২০ জুলাই প্রকাশিত বুলেটিনে বন্যায় ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছিল সংস্থাটি। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ২১ জনের মৃত্যুর খবর যোগ হওয়ায় মৃতের সংখ্যা ৩১-এ পৌঁছেছে।
জুলাই মাসের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বন্যা দিন যত গড়াচ্ছে, ততই নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এএসডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ৩৫ জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৬টি জেলার ৮৭২টি গ্রাম পানিবন্দি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৬০০-এর বেশি।
এর আগে প্রকাশিত বুলেটিনে ৭৯৪টি গ্রাম প্লাবিত এবং প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্লাবিত গ্রাম ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বন্যাকবলিত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে গোলাঘাট, কামরূপ, কামরূপ (মেট্রো), হোজাই, বিশ্বনাথ, ধেমাজি, সোনিতপুর, উদালগুড়ি, নগাঁও, চারাইদেও, জোরহাট, তিনসুকিয়া, কারবি আংলং, লখিমপুর ও শিবসাগর।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলায়। সেখানে প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৫ মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। চারাইদেও জেলায় ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ১ লাখ ৪ হাজার ৪১৫ এবং জোরহাটে ৫০ হাজার ৯৮৭ জন।
বন্যাদুর্গত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতায় কাজ করছে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও দমকল বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, বুধবার, ২২ জুলাই তিনি চারাইদেও, নাজিরা, শিবসাগর, সোনারি, জোরহাট ও তিওক সফর করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, আপার আসামের বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে অন্তত ১৯ হাজার ১০০ হেক্টর কৃষিজমি তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, শিবসাগর জেলার সিমালুগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় বন্যার কারণে সিমালুগুড়ি-নামতিয়ালি এবং সিমালুগুড়ি-সেলেনঘাট রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
এএসডিএমএর ভাষ্য, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ব্রহ্মপুত্র, বুরহিদিহিং, দিসাং, ধানসিঁড়িসহ রাজ্যের প্রায় সব প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এ কারণেই বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিভিন্ন জেলায় এ পর্যন্ত ১০১টি ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ৯ হাজার ৬০৬ জন অবস্থান করছেন।