
ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট (NEET) পরীক্ষার জালিয়াতি ও প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনে দিন দিন ক্ষোভের আগুন তীব্র হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গোটা এলাকায় জারি করা হয়েছে চরম নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এরই মাঝে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো আইনি কিংবা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার লিখিত আশ্বাস পেলে অনশন ভাঙবেন বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন খ্যাতনামা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
বুধবার (২২ জুলাই) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের লাগাতার অবস্থান বজায় থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাস ও ট্রেনে চেপে শত শত নতুন বিক্ষোভকারী রাতভর সফর শেষে সরাসরি সমাবেশস্থলে এসে যুক্ত হন। অনেকের পিঠেই ছিল ব্যাগ আর হাতে ছিল নানা দাবিসংবলিত ব্যানার।
আন্দোলনকারীদের সুবিধার্থে দায়িত্বরত স্বেচ্ছাসেবকেরা তাঁদের বসিয়ে খাবার ও সুপেয় পানির প্যাকেট পৌঁছে দেন। নতুনদের অংশগ্রহণে মিছিল ও স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো যন্তর মন্তর চত্বর।
পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের দমন-পীড়নের ইস্যুটি বুধবার ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ— লোকসভা ও রাজ্যসভায় তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দেয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও বিরোধী দলগুলো সংসদ পরিচালনায় বিঘ্ন ঘটিয়ে মূল আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই স্পর্শকাতর আবেগকে ব্যবহার করে সস্তা রাজনৈতিক সুবিধা লোটার চেষ্টা করছেন।
সমাবেশস্থলে অবস্থানরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক জানান, এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থী বা তরুণের বিরুদ্ধে সরকার ভবিষ্যতে কোনো প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেবে না—কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে এমন নিশ্চিত অনড় আশ্বাস পেলেই কেবল তিনি তাঁর অনির্দিষ্টকালের অনশন প্রত্যাহার করবেন।
উল্লেখ্য, আন্দোলন দমাতে পুলিশি পদক্ষেপ ও লাঠিচার্জ নিয়ে ইতোমধ্যে দেশটির জনমনে তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে রাজধানীজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।