
দুই সপ্তাহের টানা মার্কিন বোমা হামলা বন্ধ হওয়ার পর নতুন করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তারা কোনো শান্তি আলোচনা বা আলোচনার প্রস্তাব দেয়নি।
মার্কিন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওয়াশিংটন বোমা হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই এ প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার অনুরোধ জানানো হয়েছে—এ ধরনের খবর "সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন।"
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া ইরানের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তার ভাষায়, এটি তাদের "ডিএনএ-তে নেই।"
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের হামলায় নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ ফুরিয়ে আসার আশঙ্কার কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলা স্থগিতের পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই বোমা হামলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়াশিংটন।
হামলা বন্ধের খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৮৯ ডলারের নিচে নেমে আসে।
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করায় সোমবার সকালে ছয়টি অপরাধী জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় একটি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়।
দুই সপ্তাহব্যাপী সংঘাতে ইরানে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি সেতু ও সুড়ঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায় চারজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।