
ভারতের উত্তর প্রদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধভাবে আটকে রাখা এবং চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বুলন্দশহরের এক দুগ্ধ ব্যবসায়ীকে থানায় আটকে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সিকান্দারবাদ থানার তৎকালীন স্টেশন হাউজ অফিসার (এসএইচও)সহ সাতজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সব পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি গত এপ্রিল মাসে ঘটলেও দীর্ঘ তদন্ত শেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুলন্দশহরের রিসালদারান এলাকার বাসিন্দা সালমান পেশায় একজন দুগ্ধ ব্যবসায়ী। গত ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যায় দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিকান্দারবাদ এলাকার একটি টোল প্লাজা থেকে তাকে আটক করেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানিয়েই তাকে জোর করে সিকান্দারবাদ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
থানায় নেওয়ার পর আটকের কারণ জানতে চাইলে সালমানকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় আটকে রেখে তার কাছে ২০ লাখ রুপি চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা। তারা জানিয়ে দেন, নির্ধারিত অর্থ দিতে না পারলে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে এবং সাজানো পুলিশ ‘এনকাউন্টারের’ মাধ্যমে তার পায়ে গুলি করা হবে।
এমন হুমকির মুখে পড়ে সালমান একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে ৬ লাখ রুপি সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের হাতে তুলে দেন। এরপর তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মুক্তির সময়ও তাকে এবং তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্যও কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
বুলন্দশহরের সার্কেল অফিসার দীপক কুমার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর অরুণ কুমার, তৎকালীন স্টেশন হাউজ অফিসার (এসএইচও) নীরজ মালিক, কনস্টেবল যোগেশ এবং আরও চারজন অজ্ঞাতপরিচয় পুলিশ সদস্যকে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য টোল প্লাজা ও সিকান্দারবাদ থানার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় আঘাত করা, চাঁদাবাজি, বেআইনিভাবে আটক রাখা, শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস