
প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারী স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ, নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে বিয়ে কিংবা ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিলে তাতে অন্য কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন ভারতের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত উত্তর প্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দুই বোনের বাবাকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিব্যা ভাটিয়া ওরফে জোয়া দিয়া ভাটিয়া (২০) এবং অংশু ভাটিয়া ওরফে আমিনা অংশু ভাটিয়ার (৩৫) পক্ষে করা একটি হেবিয়াস কর্পাস আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি সন্দীপ জৈন এ পর্যবেক্ষণ দেন। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ এবং নিজেদের পছন্দের পুরুষদের বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাদের বাবা বেআইনিভাবে দুই বোনকে আটকে রেখেছেন।
আদালত বলেন, দুই নারীই প্রাপ্তবয়স্ক। ফলে ধর্ম নির্বাচন, বিয়ে, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ আইনগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘যদি শেষ পর্যন্ত এসব অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পছন্দের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ (বাবা) বা অন্য কোনো ব্যক্তির হস্তক্ষেপ তাদের সংবিধান-সুরক্ষিত মর্যাদা, গোপনীয়তা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বায়ত্তশাসনের অধিকারের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।’
আবেদনে আরও বলা হয়, দুই বোন বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে বাবা তাদের বেআইনিভাবে আটকে রেখেছেন এবং স্বাধীনভাবে চলাফেরায় বাধা দিচ্ছেন।
তবে আদালত বলেন, দুই নারী নিজেদের ইচ্ছায় এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না এবং তারা কোনো ধরনের বেআইনি আটক বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছেন কি না, সেটিই আদালতের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
‘স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ’
আদালত পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, আবেদনে উপস্থাপিত তথ্য থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দুই নারী স্বেচ্ছায় হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিয়ে করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
দুই নারীকে আগামী ৬ আগস্ট আদালতে হাজির করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই দিন তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে আদালত নিশ্চিত হতে চান, তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছায় নিয়েছেন কি না এবং বর্তমানে তারা আইনসম্মত হেফাজতে রয়েছেন কি না।
এছাড়া নির্ধারিত দিনে দুই নারীকে আদালতে হাজির করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সেখানে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণ, তাদের হাজির করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নির্দেশ বাস্তবায়নে ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, তার বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে।