
অর্থ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন থাকার পরও গভীর নিরাপত্তা উদ্বেগে রয়েছে সৌদি আরব। সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়, গত সপ্তাহে মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যেটিকে অনেকে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল শর্ত হলো, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশে হামলা হলে সেটিকে সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর তুরস্ক এই চুক্তিতে যোগ দিয়েছে। এতে ন্যাটোর সঙ্গে তুরস্কের অঙ্গীকারের কোনো লঙ্ঘন ঘটবে না।
চলমান ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরব সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির প্যাট্রিওট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ৮৬ শতাংশ কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদির তেল রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এর পাশাপাশি হুথি ও ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলায় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থাও চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিক থেকে তিন দেশ মিলে শক্তিশালী একটি জোট গড়ে তুলেছে। এই জোটে সৌদি আরব অর্থায়ন করবে, তুরস্ক উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করবে এবং পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান সেনা সহায়তা দেবে।
এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছিল। ইসরায়েলের কাতারে হামলার পর সেই চুক্তি আরও সম্প্রসারিত হয়ে এবার তুরস্ককেও এর আওতায় আনা হয়েছে।
ঐতিহাসিক মুসলিম ব্রাদারহুড বিতর্ক, লিবিয়া ও সিরিয়ায় প্রক্সি যুদ্ধ এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। তবে মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তি সৌদি রাজপরিবারের চরম দুর্বলতা আড়াল করা এবং ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল হিসেবেও কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলমান সংঘাতের কারণে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষী ‘নিওম’ প্রকল্পও থমকে গেছে। এতে সৌদি অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে।
মূলত ইরান, হুথি গোষ্ঠী এমনকি ইসরায়েলকে বার্তা দেওয়া এবং একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই রিয়াদ এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়ন করেছে।