
হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথ নির্ধারণে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ আবার চালু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও সামরিক হুমকি বন্ধসহ কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নৌপথ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা চলছে। নৌপথের মানচিত্র নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। তবে যৌথ বিবৃতির কয়েকটি কারিগরি বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
তেহরানে বাঘাই জানান, আলোচনায় নিরাপদ নৌ-চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা, সামুদ্রিক সেবা এবং অপরাধ দমনের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা থাকে বলেও জানান তিনি।
ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর শর্ত নিয়ে ইরানের পক্ষ থেকে একাধিক বক্তব্য এসেছে। রোববার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, মার্কিন হামলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ওপর প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়টি নির্ভর করছে।
অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার বিদায়ী সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর আরও কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি বন্ধ করা, ইরান, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে আগ্রাসন বন্ধ করা, উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং জব্দ করা সম্পদ ছাড় করা।
শর্তগুলোর বিষয়ে আরাঘচি বলেন, বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। জুনে স্বাক্ষরিত চুক্তি যতক্ষণ লঙ্ঘন করা হবে, ততক্ষণ সরাসরি আলোচনা শুরু হবে না। তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমরা তাদের (ইরান) সঙ্গে কেবল আংশিক আলোচনা করছি। আমরা শুধু দেখছি সেখানে অনেক মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। তাদের কাছে টাকা-পয়সা নেই।’
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ২২ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে গত এপ্রিলের শেষ দিকে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২৬ ডলারে উঠেছিল।