
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে কলম্বিয়া। ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র।
সোমবার (১০ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) ও কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। স্থানটি রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। এর আগে ভূমিকম্পটির মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল কলম্বিয়া।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, এ ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
চোকোর গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমরা এইমাত্র চোকো বিভাগে একটি বড় ভূমিকম্প অনুভব করেছি। আমরা আফটারশক নিয়ে উদ্বিগ্ন।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদিও এর কেন্দ্রস্থল ছিল সান হোসে দেল পালমারের কাছে, তবে এ ঘটনায় রাজধানী কুইবদোতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করছি এবং শিগগিরই প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করব।’
কলম্বিয়া ও ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন।
এএফপির সাংবাদিকদের বরাতে জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় বোগোটার বিভিন্ন ভবন থেকেও বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশটির আরও কয়েকটি এলাকায় ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে।
চোকো প্রদেশের গভর্নর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতে হতাহতের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এএফপির এক সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিওতেও ওই এলাকায় একটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিকে পর্যটন অঞ্চল এহে কাফেতেরোর পেরেইরা ও মানিজালেসসহ কয়েকটি শহরে ভবন ধসের ফুটেজও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে পেরেইরার মেয়রের বরাতে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মানিজালেসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই জুনের শেষ দিকে ভেনিজুয়েলায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ঘটনায় দেশটিতে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত ভবন ধ্বংস হয়েছিল। ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই ভূমিকম্পগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল।