
বাব-এল মান্দেব প্রণালীতে মিশরীয় মালিকানাধীন একটি মালবাহী জাহাজে হুতি বিদ্রোহীদের পরপর দুই দফা হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরাও হামলার দ্বিতীয় দফায় হতাহত হয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর সমুদ্রপথে হুতিদের হামলায় এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হুতিরা তিনটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং এটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হামলায় তিনজন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক নিহত হন। পরে নিহত ও আহতদের উদ্ধারে ইয়েমেনের কোস্টগার্ডের সদস্যরা এগিয়ে গেলে তাদের লক্ষ্য করেও একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এতে উদ্ধার অভিযানে থাকা আরও দুই সেনা সদস্য প্রাণ হারান।
এ ঘটনায় জাহাজের সাতজন ক্রু সদস্যসহ মোট ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে হুতিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
হুতিদের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বার্তা সংস্থা সাবা জানিয়েছে, সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি আরব অবশ্য এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুতিদের মধ্যে ২০২২ সালে জাতিসংঘের সমর্থনে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, গত ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার পর তা ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে হুতিরা সৌদি আরবের আবহা বিমানবন্দর, বিভিন্ন নৌযান ও তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।
এর পাল্টা জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের হুদায়দাহ ও কামারান দ্বীপে বিমান হামলা পরিচালনা করছে।