
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট প্রকাশের আগেই তা নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ও বিক্রির বিতর্কিত ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নিউইয়র্কের ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে যৌথভাবে দেওয়ানি মামলাটি করেছে দ্য ইন্টারসেপ্ট মিডিয়া ও ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, সরকারি নীতি, সামরিক অভিযান কিংবা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট আর্থিক বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এসব পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাদীপক্ষ।
মামলায় ট্রাম্পের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মাসে প্রায় ১ লাখ ডলারের বিনিময়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আগাম বিক্রির ব্যবস্থাকে ‘অসাধারণ, দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসাংবিধানিক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ও পঞ্চম সংশোধনী লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে ট্রুথ সোশ্যালের মূল প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প মিডিয়া ‘ট্রুথ এপিআই’ নামে এই সেবা চালু করে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পসহ শীর্ষ ১০টি অ্যাকাউন্টের পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে পাওয়ার সুযোগ পান অর্থ পরিশোধকারী গ্রাহকেরা।
এই তালিকায় ট্রাম্প ছাড়াও রয়েছে হোয়াইট হাউস, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এফবিআই পরিচালক ক্যাশ প্যাটেল, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট, পরিবহন সচিব শন ডাফি এবং স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট কেনেডির অ্যাকাউন্ট।
ট্রাম্প মিডিয়ার সিইও কেভিন ম্যাকগার্নের দাবি, ট্রুথ এপিআইয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে প্রকাশ্য তথ্য সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় মিলিসেকেন্ডের ব্যবধানে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার মূল্যের ১০টির বেশি চুক্তি করেছে বলেও জানান তিনি।
মামলায় ট্রাম্পের পাশাপাশি তার নির্বাহী সহকারী ন্যাটালি হার্প, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ড্যান স্ক্যাভিনো, প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এবং হোয়াইট হাউস অফিসকেও আসামি করা হয়েছে।