
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানের একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক যৌথ বিবৃতিতে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের পর ইরাকে বৈশ্বিক জোটের ইসলামিক স্টেট (আইএস)বিরোধী সামরিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে। ১ অক্টোবরকে ইরাকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ ওই দিন থেকে দেশটির ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সেনা উপস্থিত থাকবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সেনা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়।
সেনা প্রত্যাহারের পর দুই দেশ পারস্পরিক সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
২০০৩ সালে তৎকালীন ইরাকি প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সাদ্দামের পতন এবং পরবর্তী সময়ে তার বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের কথা থাকলেও ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর উত্থানের কারণে ইরাকে সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখে ওয়াশিংটন।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইএস দমনে আন্তর্জাতিক জোটের যৌথ অভিযান উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় ইরাকের নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী এখন প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করেছে।