
ইরান থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একটি দেশটির জলসীমায় পড়েছে। অপরটি আমিরাতের জলসীমার বাইরে গিয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। খবর এনডিটিভির।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার আগে কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে সতর্কতা জারি করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনসিইএমএ)।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমিরাতকে লক্ষ্য করে এগিয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি শনাক্ত করেছে। এ পরিস্থিতিতে সবাইকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পাশাপাশি সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশিত সতর্কতা ও সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়।
একই সময়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। এতে চলমান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কার কারণে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ ভবনে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছিল, শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) একটি জাহাজে তেহরান হামলা চালিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানকে উসকানিবিহীন হামলা বন্ধ, শত্রুতা অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানায়।
আমিরাতে সর্বশেষ ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা জারি করা হয়েছিল মে মাসে। এরপর জুনে জাতীয় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় কারিগরি ত্রুটির কারণে বাসিন্দাদের কাছে ভুল করে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের হামলার বড় একটি অংশের লক্ষ্য ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ পর্যন্ত দেশটির দিকে প্রায় ৩ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।