
ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সবচেয়ে বড় হামলার মুখে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়ে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ধরে রাখার নতুন কৌশল নিয়েছে সৌদি আরব। বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জ্বালানি রফতানি নির্বিঘ্ন রাখা এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না জড়ানোর লক্ষ্যেই কূটনীতি ও প্রতিরোধ—দুই পথকে একসঙ্গে কাজে লাগাচ্ছে রিয়াদ।
হুথিদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো
সম্প্রতি হুথিদের চালানো হামলায় সৌদি আরবের চারটি শহরের জ্বালানি অবকাঠামো এবং একটি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হন।
এ ছাড়া আরামকোর দৈনিক ৪ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতার জাজান রিফাইনারিতে আগুন ধরে যায়। হুথিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি আরবের চালানো ১২০টির বেশি বিমান হামলার জবাব হিসেবেই তারা ওই হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের হামলার পর সৌদি সমর্থিত জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের অপারেশনাল ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
যুদ্ধের পরিবর্তে ইয়েমেনি বাহিনীকে শক্তিশালী করার কৌশল
সৌদি আরবের বর্তমান কৌশলের কেন্দ্রে রয়েছে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি বাহিনীকে সমর্থন ও শক্তিশালী করা।
ইয়েমেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেজর জেনারেল সমীর আল-সাবরি জানিয়েছেন, সানা পুনরুদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এর বিপরীতে হুথি মুখপাত্র নসরুদ্দিন আমির দাবি করেছেন, সৌদি আরবের বিমান হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
হামলা বাড়লে কার্যকর হতে পারে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টিও সামনে এসেছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবে হামলার মাত্রা বাড়লে এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর করা হতে পারে।
তবে একটি সূত্রের দাবি, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত হামলাগুলো মূলত প্রতীকী পর্যায়ের হতে পারে। এর কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, তুরস্ক ও পাকিস্তান—দুই দেশই ইরানের সীমান্তবর্তী। ফলে কোনো পক্ষই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়তে চায় না।
হরমুজের বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব
হরমুজ প্রণালি প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকায় সৌদি আরবের জন্য বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এই পথ ব্যবহার করে জ্বালানি রফতানি সচল রাখা এখন রিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই সহায়তা ‘আড়ালে থেকে’ দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এতে সৌদি আরব কিছুটা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সানওবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমার মতে, সৌদি আরব চায় যুদ্ধের পরিসর কেবল ইয়েমেনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। অন্যদিকে হুথিদের লক্ষ্য হলো সংঘাতকে সৌদি আরবের ভূখণ্ডের ভেতরে টেনে নেওয়া।
তেলের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছানোর পেছনে ইরানের ভূমিকা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই ইরান মূলত হুথিদের উসকে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে।
শুধু ইয়েমেনের হুথিদের হুমকিই নয়, ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত শিয়া মিলিশিয়াদের কাছ থেকেও সৌদি আরব একই ধরনের হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে।
তবে এই বহুমুখী চাপের মধ্যেও সৌদি আরবের প্রধান লক্ষ্য ইয়েমেনের ভেতরে হুথিদের ওপর চাপ বজায় রেখে নিজেদের তেল সরবরাহ নিরাপদ রাখা।
সূত্র: আল-মনিটর