
একমাত্র সন্তানকে হারানোর পর দুই দশকেরও বেশি সময় আগে সংরক্ষণ করা ভ্রূণ ব্যবহার করে আবারও মা হয়েছেন গ্রিসের ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপ্তি-তজেলেপি।
গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এথেন্সের একটি হাসপাতালে আইভিএফ পদ্ধতিতে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্টান্টিনোসের ২১ বছর বয়সী ছেলে জর্জোস গত বছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। একমাত্র সন্তানকে হারানোর সেই শোক থেকেই তারা আবার পরিবার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। জর্জোসের জন্মও হয়েছিল আইভিএফ পদ্ধতির মাধ্যমে।
তবে নতুন সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দম্পতির হাতে খুব বেশি সময় ছিল না। গ্রিসে আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করেন ক্রিস্টিনা।
গত বছরের ডিসেম্বরে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর একটি ক্রিস্টিনার জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর সফলভাবে গর্ভধারণের পর গত বুধবার তিনি কন্যাসন্তান জর্জিয়ার জন্ম দেন। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল ৩ দশমিক ৪৯ কেজি।
চিকিৎসক কনস্টান্টিনোস প্যান্টোস জানান, দম্পতির আরও নয়টি ভ্রূণ সংরক্ষিত আছে। ভবিষ্যতে আরও একটি সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও গ্রিসের বিদ্যমান আইনি বিধিনিষেধের কারণে এখন তাদের সেই সুযোগ নেই।
সন্তান জন্মের পর ক্রিস্টিনা বলেন, তারা নতুনভাবে জীবন শুরু করার লক্ষ্যেই সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। পরিবারের জীবন থেকে একটি অধ্যায় হারিয়ে যাওয়ার পর জর্জিয়ার জন্ম তাদের ঘরে আবারও আনন্দ ফিরিয়ে এনেছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর গ্রিসে আইভিএফের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বয়সসীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্রিস্টিনার ৬০ বছর বয়সী স্বামী কনস্টান্টিনোস এই বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা ভ্রূণ থেকে সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রিস্টিনার ঘটনা সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের নজির নয়। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে প্রায় ৩১ বছর সংরক্ষিত একটি ভ্রূণ থেকে শিশুর জন্ম হয়েছিল।