
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক আকস্মিক বরফ ধস ও ভয়াবহ বন্যাকে শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকার দুর্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর প্রভাব বিস্তৃত পরিবেশ ব্যবস্থার ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হিমালয় পর্বতমালার ওপর প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের আটটি দেশের জন্য ঘটনাটি বড় ধরনের সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমালয়ের বরফ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতি আরও ঘন ঘন এবং জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
হিমালয়ের উচ্চভূমিতে বরফ ধস কিংবা পাহাড়ি ঢল নামলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে ধাবিত হয়। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকার একেবারে নিম্নপ্রান্তে বাংলাদেশের অবস্থান হওয়ায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাব সরাসরি দেশের ওপর পড়তে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন এবং স্বাভাবিক সময়ের বাইরে পাহাড়ি ঢলের মতো দুর্যোগের আশঙ্কা আরও তীব্র হতে পারে। ফলে হিমালয় অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিবেশ পরিস্থিতি শুধু পাহাড়ি এলাকাগুলোর জন্য নয়, নিম্নভূমির দেশগুলোর জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় একেকটি দেশকে আলাদাভাবে উদ্যোগ নিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন ও পাকিস্তানসহ সংশ্লিষ্ট আটটি দেশকে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়ার আগাম তথ্য দ্রুত একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করা এবং আন্তসীমান্ত নদীগুলোর পানিপ্রবাহ ও গতিপ্রকৃতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সময়মতো দুর্যোগের পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যেতে পারে।
তথ্য সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস