
ইয়েমেনের হুথিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরবকে সীমিত সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। এর আওতায় সৌদি যুদ্ধবিমানকে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের সময় আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ করবে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। সৌদি সরকারের সামরিক সহায়তার অনুরোধের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডের পরামর্শে তিনি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সহায়তার অংশ হিসেবে সাইপ্রাসের আরএএফ আক্রোতিরি ঘাঁটিতে থাকা একটি ‘ভয়েজার’ ট্যাংকার বিমান ব্যবহার করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সহায়তাটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় তা পর্যালোচনা করা হবে।
বার্নহাম বলেন, “We have received a request from the Kingdom of Saudi Arabia for military support, and on the advice of the defence secretary and the foreign secretary, last night I agreed to that request for defensive air-to-air refuelling.”
ব্রিটিশ সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সহায়তার লক্ষ্য সৌদি আরবকে হুথিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে প্রতিরক্ষা করতে সহায়তা করা। যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার রিয়াদকে লক্ষ্য করে একটি হামলা চালানো হলে সেটি প্রতিহত করার কথা জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, মূল্যবৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ার মতো প্রভাব যুক্তরাজ্যেও পড়তে পারে। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ সচল রাখার স্বার্থে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বার্নহামও যুক্তরাজ্যের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ এবং দেশের স্বার্থের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওপর হামলার কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথগুলো সচল রাখা প্রয়োজন।
এদিকে ইয়েমেনে হুথিদের সাম্প্রতিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও লোহিত সাগরসংলগ্ন এলাকায় সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিচালিত হওয়ায় সেখানে অস্থিতিশীলতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব দীর্ঘদিনের সামরিক অংশীদার। ব্রিটেন সৌদি আরবের অন্যতম বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। চলতি বছর সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারে যুক্তরাজ্য ‘স্কাই সাবার’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছিল।