
উত্তর ইরাকে থাকা বাশিকা-জিলকান সামরিক ঘাঁটি ধাপে ধাপে ইরাকের ফেডারেল সরকারের কাছে হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে তুরস্ক। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইরাকের সিনজার অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা এবং সেখানে নিষিদ্ধ বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি বন্ধ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এ বিষয়টি মূলত সিনজার এলাকায় কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অগ্রগতির ভিত্তিতে নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও সময়সূচি অনুযায়ী তুরস্কের সেনারা বাশিকা-জিলকান ঘাঁটি ইরাকের ফেডারেল সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে যৌথ বিবৃতিতে হস্তান্তর শুরুর বা শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং যৌথ কৌশলগত প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ঐকমত্য হয়েছে। বিশেষ করে ‘ডেভেলপমেন্ট রোড’ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোসুলের উত্তর-পূর্বে বাশিকায় তুরস্ক ২০১৫ সালে স্থানীয় বাহিনীকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে। ওই সময় সেখানে প্রায় ৬০০ তুর্কি সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বাগদাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল এবং ইরাক এটিকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে দেখেছে।
সিনজারসহ উত্তর ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় তুরস্ক ও পিকেকের সংঘাতও দীর্ঘদিন ধরে আঙ্কারা-বাগদাদ সম্পর্কের অন্যতম নিরাপত্তা ইস্যু। ২০২৫ সালে তুরস্ক ও পিকেকের শান্তি প্রক্রিয়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তঃসীমান্ত সামরিক তৎপরতা কমে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় বাশিকা ঘাঁটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দুই দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে।