
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মানচিত্রে কৌশলগত এই জলপথটির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ইরানের সাত দিনের নতুন প্রস্তাবের পর এটিকে ট্রাম্পের অবস্থানের প্রথম প্রকাশ্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কয়েকটি শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা বলা হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হরমুজকে কেন্দ্র করে ধাপে ধাপে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে। এর পর হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর পাশাপাশি পরমাণু ইস্যুতে আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হচ্ছে বলে শুক্রবার জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এর আগে চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়।
ইরানের প্রস্তাবের পাশাপাশি ট্রাম্পের পোস্টে হরমুজের নতুন নাম ব্যবহারের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতেও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলেছিলেন।
তবে হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তনের বিষয়টি কোনো আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ব্যবহৃত নাম। ইরানের নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে ঘোষণা দেয়নি।