
যদি যুদ্ধই একমাত্র পথ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনকি দুনিয়া ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো প্রলয়ংকারী যুদ্ধেও যেতে প্রস্তুত ইরান। তবে একই সময়ে শান্তি স্থাপনের কোনো সুযোগও হাতছাড়া করতে চায় না তেহরান। যুদ্ধের প্রস্তুতি এবং কূটনীতির দরজা—দুই পথেই ইরান এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি যুদ্ধের বিষয়ে ইরানের এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে ইরান তার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তেহরান অটল অবস্থানে থাকবে, সংঘাতের পরিণতি যত ভয়াবহই হোক না কেন।
আরাগচির এ বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বাড়ছে। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দেয় ইরান।
প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার আশ্বাস দেয় তেহরান। এর বিনিময়ে সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক অবরোধ কমানো, জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং তেল বিক্রির সুযোগ চায় ইরান।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ প্রসঙ্গে আরাগচি বলেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তখনও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের কাছে পৌঁছায়নি। ফলে আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
আরাগচি বলেন, যুদ্ধের প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনীতিতেও বিশ্বাসী তেহরান। শান্তির কোনো সুযোগ নষ্ট করা উচিত নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে ইরানের আগ্রহ থাকলেও অতীত অভিজ্ঞতার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।
অন্যদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ ইরানের নতুন প্রস্তাবকে কৌশলী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, ইরান এমন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে, যেগুলো গ্রহণযোগ্য হবে না—এটি তেহরান আগে থেকেই জানত।
ওয়াল্টজ বলেন, ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র পৌঁছানো বিশ্বনিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। এ কারণে ইরান ইস্যুতে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখবে।
এদিকে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলা নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসি। ভারত মহাসাগরে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে বাহিনীটি।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেকারচি বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার জবাব দেবে তেহরান। শত্রুকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আগের চেয়ে উন্নত ও শক্তিশালী হয়েছে। এবার শত্রুর জন্য কিছু চমক অপেক্ষা করছে।