
হরমুজ প্রণালি দিয়ে অনুমোদনহীন পথে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় সমুদ্রের মাইনে আঘাত লেগে অপরিশোধিত তেলবাহী একটি সুপারট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটির নৌবাহিনী এ তথ্য জানায়। তবে বিস্ফোরণের শিকার জাহাজটির নাম, মালিকানা কিংবা জাতীয় পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
অবস্থান শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ ছিল ট্যাংকারটির
আইআরজিসির নৌবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় ট্যাংকারটি নিজের অবস্থান শনাক্ত করার নেভিগেশন ও অবস্থান নির্ধারণব্যবস্থা বন্ধ রেখেছিল। এ অবস্থায় অননুমোদিত পথে চলাচলের সময় জাহাজটি সমুদ্রের মাইনে আঘাত পায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে বলে দাবি করেছে ইরানি বাহিনী।
এর আগে শুক্রবার ইরান সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তেহরানের বিবেচনায় অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তবে বিস্ফোরণের ঘটনা সম্পর্কে আইআরজিসির দেওয়া বক্তব্যের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এক সপ্তাহে অন্তত ১২টি হামলা ও হয়রানির ঘটনা
হরমুজ প্রণালির আশপাশে সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত এই জলপথের কাছে তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে হামলা, হামলার চেষ্টা কিংবা হয়রানির অন্তত ১২টি ঘটনা ঘটেছে।
একের পর এক এসব ঘটনার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হওয়ায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনা তেল সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে।
জাহাজ চলাচল কমেছে, তেল পরিবহনেও বড় ধাক্কা
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ৬ অক্টোবর মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করে। গত ২৩ জুলাইয়ের পর এক দিনে এটিই ছিল সর্বনিম্ন জাহাজ চলাচলের ঘটনা।
একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় প্রণালিটি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন প্রায় ২৬ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে এ পথে দৈনিক তেল পরিবহনের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ, হামলার আশঙ্কা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জ্বালানি পরিবহন আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।