
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের অভিযানে আটক হয়েছেন বিজেপির সাবেক বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের মেয়ে যশস্বিনী রাজে সিং।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলা সাহিব গুরুদুয়ারার কাছের একটি পার্কে বসে থাকা অবস্থায় তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কেশবপুরম থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান যশস্বিনী।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের আয়োজন করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়। বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ।
কে এই যশস্বিনী রাজে সিং?
যশস্বিনী রাজে সিং উত্তর প্রদেশের বিজেপির সাবেক বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের মেয়ে। তার বাবা রাজ্যটির ফতেহপুর সদর আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এর আগেও বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিতে দেখা গেছে যশস্বিনীকে। গত জুন ও জুলাইয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ওই আন্দোলন থেকে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হয়েছিল। সে সময় সিজেপির কর্মসূচির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন যশস্বিনী।
শনিবার যন্তর মন্তরে সিজেপির কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লিজুড়ে জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করে পুলিশ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড এবং স্পাইক স্ট্রিপ বসানো হয়। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
আটক চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও
সিজেপির বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে বিরোধী রাজনীতির চার সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও পুলিশের হাতে আটক হন। তারা হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং বামপন্থী নেতা পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকার।
দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে আটক হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশ তাকে বিক্ষোভস্থলে যেতে বাধা দিলে তিনি একটি বাসস্ট্যান্ডে বসে পড়েন। পরে তাকে ও দলের পাঁচ সংসদ সদস্যকে পুলিশের বাসে তুলে নেওয়া হয়। আটক সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেন।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর নেতাকর্মীদের আটক এবং রাজধানীজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা মোতায়েনের ঘটনা দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।