
মুসলিমদের তাকওয়া অবলম্বন এবং মহান আল্লাহর সরল পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র কাবার খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ আল-মুয়াইকিলি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মক্কার মসজিদে হারামে দেওয়া জুমার খুতবায় তিনি এ আহ্বান জানান।
খুতবায় শায়খ মাহের আল-মুয়াইকিলি বলেন, যে ব্যক্তি তার রবকে ভয় করে, সে মুক্তির পথ খুঁজে পায়। আর যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে পথভ্রষ্টতার দিকে চলে যায়। মহান আল্লাহ নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে মানুষের পথপ্রদর্শক হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি মানুষকে আল্লাহর সরল পথের দিকে আহ্বান করেছেন এবং এর বিপরীত সব পথ থেকে সতর্ক করেছেন।
তিনি বলেন, সরল পথের গুরুত্ব এত বেশি যে, আল্লাহতায়ালা মুসলমানদের প্রত্যেক নামাজের প্রত্যেক রাকাতে এ পথের হেদায়েত প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছেন। নামাজে মুসলমানরা বারবার বলে, ‘আমাদের সরল পথ দেখান।’ (সূরা ফাতিহা: ৬)
কাবার খতিব ব্যাখ্যা করেন, সরল পথ হলো ইসলাম এবং এ পথের প্রধান পথপ্রদর্শক পবিত্র কোরআন। নবী কারিম (সা.) তাঁর কথা, কাজ, অনুমোদন ও জীবনাচরণের মাধ্যমে কোরআনের শিক্ষা মানুষের সামনে বাস্তবভাবে তুলে ধরেছেন। তাই যে ব্যক্তি কোরআন আঁকড়ে ধরে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে এবং তাঁর আদর্শকে জীবনের পথনির্দেশনা হিসেবে গ্রহণ করে, সে সরল পথেই রয়েছে।
তিনি বলেন, সরল পথের জন্য শুধু নিজেকে মুসলমান দাবি করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সঠিক জ্ঞান ও সে অনুযায়ী সৎকর্ম। উপকারী জ্ঞান মানুষকে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য শেখায়, আর সৎকর্ম সেই জ্ঞানকে জীবনে বাস্তবায়ন করে। তাই একজন মুমিনের জীবনে জ্ঞান ও আমল—দুটিই অপরিহার্য।
খুতবায় তিনি আরও বলেন, সরল পথ দুটি মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত—আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস ও একমাত্র তাঁর ইবাদত করা এবং ইবাদত ও জীবনাচরণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অনুসরণ করা। আল্লাহর ইবাদতও নিজের ইচ্ছামতো নয়; বরং রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই তা পালন করতে হবে।
শায়খ মাহের আল-মুয়াইকিলি বলেন, দুনিয়ায় যে ব্যক্তি আল্লাহর সরল পথে যত বেশি অবিচল থাকবে, আখেরাতের কঠিন পরীক্ষায় তার সফল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি। কারণ কেয়ামতের দিন জাহান্নামের ওপর স্থাপিত সেতু অতিক্রম করতে হবে। তাই দুনিয়ার প্রতিটি দিন আখেরাতের সেই যাত্রার প্রস্তুতি।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, হেদায়েত পাওয়ার পরও মানুষের অন্তর পরিবর্তিত হতে পারে। পরিবেশ, প্রবৃত্তি, শয়তানের প্ররোচনা ও পার্থিব মোহ মানুষকে সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারে। এ কারণে নবী কারিম (সা.) নিজেও আল্লাহর কাছে হেদায়েত ও অবিচলতার জন্য দোয়া করতেন।
খুতবায় তিনি মুসলিমদের কোরআন ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরে জীবনযাপনের আহ্বান জানান। তাঁর মতে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ইবাদত থেকে শুরু করে চরিত্র, পরিবার, সমাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও মানুষের সঙ্গে আচরণ—জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক পথ দেখায়।
খুতবায় শেষে তিনি সবাইকে সরল পথের হেদায়েত, সেই পথে অবিচল থাকার তাওফিক এবং কোরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনযাপনের সামর্থ্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।