
আল্লাহর প্রিয় রাসুল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। প্রতিদিনের আমলের অংশ হিসেবে যেকোনো সময় দরুদ পড়া যায়। তবে হাদিস শরিফে বিশেষ কিছু সময়ে বেশি দরুদ পাঠের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নবীর নাম শুনলে
মালেক বিন হুয়াইরিস (রহ.) থেকে বর্ণিত, একবার আল্লাহর রাসুল (সা.) মিম্বারে আরোহণ করে পরপর তিন ধাপে ‘আমিন’ বলেন। পরে এর কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, জিবরাঈল (আ.) তাঁকে বলেন, যে ব্যক্তি রমজান পেয়েও পাপমুক্ত হতে পারেনি, তার জন্য ধ্বংস। যে ব্যক্তি মা-বাবা বা তাঁদের কোনো একজনকে জীবিত পেয়েও তাঁদের সেবা করে জান্নাত অর্জন করতে পারেনি, তার জন্যও ধ্বংস। আর যার কাছে রাসুল (সা.)-এর নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করল না, তার জন্যও ধ্বংস। প্রতিটি কথার পর রাসুল (সা.) ‘আমিন’ বলেন। (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৯০৭)
মজলিস শেষ করার সময়
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেছেন, কোনো সম্প্রদায় এমন মজলিসে বসে, যেখানে তারা আল্লাহর জিকির করে না এবং তাদের নবীর ওপর দরুদও পাঠ করে না, তাহলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও হতাশ হবে। আল্লাহ চাইলে তাদের শাস্তি দিতে পারেন অথবা ক্ষমা করতে পারেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৮০)
আজানের পর
আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তোমরা যখন মুয়াজ্জিনকে আজান দিতে শোন, তখন সে যা বলে তোমরাও তা বলো। এরপর আমার ওপর দরুদ পাঠ করো। কারণ, যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর ১০ বার রহমত বর্ষণ করেন। (মুসলিম, হাদিস: ৭৩৫)
শুক্রবার বেশি বেশি
আওস ইবনু আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, দিনের মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এদিন আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং এদিনই তাঁর রুহ কবজ করা হয়েছিল। কেয়ামতের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোও এদিন সংঘটিত হবে। তাই জুমার দিন তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে বলেছেন তিনি। কারণ, উম্মতের দরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
মোনাজাতের আগে
দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা দোয়ার অন্যতম আদব। ফাজালাহ ইবনে উবাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নামাজের মধ্যে দোয়া করছিলেন, কিন্তু রাসুল (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করেননি। তখন নবী (সা.) বলেন, লোকটি তাড়াহুড়া করেছে। এরপর তিনি শিক্ষা দেন, কেউ দোয়া করলে প্রথমে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করবে, এরপর নবী (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং তারপর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দোয়া করবে। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৭৭)
মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর প্রিয় রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।