
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের জন্য নির্ধারিত ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত সকল ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শেষ হবে। এরপর কেন্দ্রগুলোতে গণনা শুরু হবে।
কেন্দ্রভিত্তিক ফল ঘোষণার পর আসনভিত্তিক একীভূত ফল প্রকাশ করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। পরে তা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে স্থাপিত ফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে ঘোষণা করা হবে।
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সারাদেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং বিকাল সাড়ে ৪টায় ভোটগ্রহণের সময় শেষ হয়েছে।
এর আগে দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ৩২.৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। সারাদেশে মোট ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
শেরপুর-৩ আসন বাদে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোট হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন কমিশন বাতিল করেছে।
এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। মোট প্রার্থী ২,০৩৪ জন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, যারা ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৯ জন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টি ১৯৮ জন লাঙ্গল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩২ জন প্রার্থী শাপলা কলি প্রতীকে রয়েছেন।
ভোটার সংখ্যার দিক থেকেও এবারের নির্বাচন বড়। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন। সর্বনিম্ন ভোটার ঝালকাঠি-১ আসনে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন এবং সর্বোচ্চ ভোটার গাজীপুর-২ আসনে ৮ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ জন।
২৯৯টি সংসদীয় আসনে ৪২,৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৪৭,৪৮২টি ভোটকক্ষ রয়েছে। নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোতায়েন রয়েছেন প্রায় ৯ লাখ সদস্য। এছাড়া ৮১টি দেশি সংস্থার ৫৫,৪৫৪ জন এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ভোট পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।