
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই সারা দেশে একযোগে অনুষ্ঠিত গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও অনিশ্চয়তায় ঝুলছে। সংসদ নির্বাচনের ফলাফল একের পর এক নির্বাচন কমিশনে পৌঁছালেও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশে দেখা দিয়েছে বিলম্ব।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জানান, বহু আসনের গণভোটের ফল এখনো রিটার্নিং কর্মকর্তারা, যারা জেলা প্রশাসক হিসেবেও দায়িত্বে আছেন, কমিশনে জমা দেননি। মূলত কয়েকজন ডিসি চূড়ান্ত ফল পাঠানো ছাড়াই নিজ নিজ বাসভবনে চলে যাওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নেত্রকোনার ডিসিরা সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জমা দিলেও গণভোটের তথ্য এখনো পাঠাননি। নির্বাচন কমিশন থেকে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট ডিসিরা তাদের অধীন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন যে শুক্রবার গণভোটের ফল কমিশনে পাঠানো হবে। ফলে এসব জেলার তথ্য পাওয়ার ওপরই গণভোটের সার্বিক ফল ঘোষণা নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
ইসি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে বলেন, যেসব জেলার ফলাফল এখনো হাতে আসেনি, সেগুলো জমা না পড়া পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা সম্ভব নয়। কারণ এই জেলাগুলোর ফলাফলই সামগ্রিক চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এরই মধ্যে ২৯৯টি সংসদীয় আসনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা করা না গেলেও প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গণভোটে ‘না’ ভোট চারটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। এগুলো হলো বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম ১৩ আসন। শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের ফলাফল শিট থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বান্দরবানে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭১ হাজার ৪১৭টি এবং ‘না’ ভোট ৯০ হাজার ১৫৬টি। সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। চট্টগ্রাম ১৩ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ৮০ হাজার ৫৮০টি, বিপরীতে ‘না’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৬২৯টি। মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৯৫ হাজার ২৪৬ জন।
রাঙামাটিতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৭১ হাজার ৬৯৯টি, আর ‘না’ ভোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮০৫টি। সেখানে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। খাগড়াছড়িতে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৫৫টি এবং ‘না’ ভোট ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪২টি। এ জেলায় মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ১১৩ জন।