
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনার মধ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে, অনুষ্ঠানে সশরীরে থাকছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। তবে ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মইজ্জু এবং ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেবে। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ সম্পন্ন হয়েছে।
নয়াদিল্লি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকাকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না। তার পরিবর্তে ভারতের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সঙ্গে থাকবেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।
পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেছে। আমন্ত্রণ পেলেও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ ঢাকায় আসছেন না। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে আলোচনা থাকলেও তিনি বর্তমানে সরকারি সফরে ইউরোপে অবস্থান করছেন। ফলে পাকিস্তান সরকারের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালকে প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মার উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় একাধিক দেশের সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রয়েছেন। ইতোমধ্যে অনেকে অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আরও কয়েকজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।
গত ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফলাফল স্থগিত থাকা দুটি আসনেও দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির জোটসঙ্গীরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়ী হয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে আরও ৯টি আসন।