
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ঘিরে শতকোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও তার ব্যক্তিগত সহকারী মাসুমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন দুদকের কার্যালয়ে এ আবেদন জমা দেন। আবেদনের সঙ্গে ‘৮ মাসে সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে ঘুষ লেনদেন শতকোটি’ শিরোনামের একটি সংবাদ প্রতিবেদনও সংযুক্ত করা হয়েছে।
উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মাত্র আট মাসে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রক্রিয়ায় বিপুল অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময়ে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ না করে আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতেই অধিকাংশ বদলি সম্পন্ন করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত নিবন্ধন অধিদপ্তরের ৪০৩ জন সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে অন্তত ২৮২ জনকে বদলি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০০ জন ঘুষ দিয়ে পছন্দের কর্মস্থল নিশ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বিধিমালা অনুযায়ী ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রেডের কর্মকর্তাদের একই গ্রেডের কার্যালয়ে পদায়নের কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি। বরং ঘুষের বিনিময়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তাদের উচ্চ গ্রেডের অফিসে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। অন্যদিকে যারা ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাদের নিম্ন গ্রেডে বদলি বা একাধিকবার স্থানান্তরের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।
এমন ঘটনাও সামনে এসেছে যেখানে কোনো কোনো কর্মকর্তাকে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের আগের দিনই আবার অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় গত বছরের ১ জুন আইন মন্ত্রণালয় একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই এবং এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এই সতর্কতা জারির আগেই অধিকাংশ অনিয়ম সংঘটিত হয় এবং পরে আর কোনো বদলির নির্দেশ জারি করা হয়নি।