
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বরাবরের মতো এ নির্বাচনেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এ তফসিল ঘোষণা করেন।
তফসিল অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের ২১ এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র ২২ ও ২৩ এপ্রিল বাছাই করা হবে। ২৯ এপ্রিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
এ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাচন কমিশনের যুগ্মসচিব মো. মঈন উদ্দীন খান। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনকে।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে সাধারণ ভোটাররা অংশ নেন না। জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত নিজেদের প্রাপ্য আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় এ নির্বাচন প্রায় সবসময়ই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়। ফলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনেই বিজয়ীদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত সাধারণ আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বণ্টন করা হয়। সেই হিসাবে এবার বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র জোট পাবে ১টি আসন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে প্রায় দেড় বছর পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের পরদিন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।