
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, “বিশ্ব শান্তির জন্য আজ বেশ বড় একটি দিন।”
বুধবার (৮ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরান চায় এটা ঘটুক, তারা আর সহ্য করতে পারছে না। একইভাবে অন্যরাও পারছে না।” সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য আশাবাদকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন। যুদ্ধবিরতি ও সংশ্লিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যমও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা জাহাজগুলোর জট নিরসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা করা হবে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে বিবেচিত। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে প্রণালী পুনরায় সচল রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ এই যুদ্ধবিরতিকে “নজিরবিহীন রাজনৈতিক বিপর্যয়” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরায়েলকে আলোচনার টেবিলে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে ইসরায়েলি বিরোধী রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
লাপিদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। তার ভাষায়, “নেতানিয়াহু নিজেই নিজের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জন করতে পারেননি।” তিনি দাবি করেন, সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করলেও রাজনৈতিক নেতৃত্ব কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয়। পরে পাল্টাপাল্টি হামলা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে অবশেষে দুই সপ্তাহের জন্য একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান।