
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী ও একমুখী সামরিক অবস্থান ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ, শক্তি প্রদর্শন এবং দ্রুত বিজয়ের যে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল—তা আবারও ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়ার দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে সামরিক হামলার কৌশল কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারেনি।
স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, “শুরু থেকেই মস্কো বিশ্বাস করে আসছে যে এ সংকটের সামরিক সমাধান নেই। কেবল রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।” তিনি আরও বলেন, রাশিয়া বারবার ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং অবিলম্বে শান্তি আলোচনা শুরু করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের ওপর সম্ভাব্য বোমা হামলা ও সামরিক আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখা হবে। ট্রাম্পের এ ঘোষণা আসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ বহু সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
এর পাল্টা জবাবে ইরান ইসরাইলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ওপরও সীমাবদ্ধতা আরোপ করে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং যেকোনো সময় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।