
বিরোধী দলের আপত্তি উপেক্ষা করে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত নতুন বিল, যার মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উপস্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন পায়।
এর আগে বিলটির বিরোধিতা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তবে তার আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
বিলটি পাস হওয়ার ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশটি বাতিল হয়ে যায় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনরায় কার্যকর হয়।
বিলের বিরোধিতা করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আজকে যারা সরকারি বেঞ্চ রয়েছেন তারা চব্বিশের জুলাইয়ের আগে হলে এই বিল পাসের বিরোধিতা করত।”
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ বাতিল হলে মানবাধিকার কমিশনকে আবারও ‘রাজনৈতিক দমনপীড়নের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।
তার বক্তব্যে তিনি যোগ করেন, “আমরা ইতিহাস থেকে কোনো শিক্ষা নিই না। এটা এই বছর পাস না করি, আগামী বছর পাস না করি, সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে হয়ত ল্যাপস করা যাবে। কিন্তু এই সংসদে জাতীয় মানবাধিকর কমিশন অবশ্যই পাস হবেই হবে।”
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সময় স্বল্পতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তার ভাষায়, “এই পুরো জার্নির পেছনে যে আইনটি জড়িত তা নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করছি। এটার আলোচনার জন্য দুই মিনিট সময় অপ্রতুল। সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে, প্রশংসা, অন্য বিষয়ে অনেক সময় অপচয় হয়, কিন্তু জাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ…। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ করব, এই সময় সীমাবদ্ধতা না রেখে সময় যেন বাড়িয়ে দেওয়া হয়।”
জবাবে স্পিকার বলেন, অতীতে এ ধরনের বিষয়ে দুই মিনিট সময় দেওয়ার নজির রয়েছে। তবে পরে তিনি হাসনাতকে অতিরিক্ত দুই মিনিট সময় দেন।
এ সময় বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমানও আলোচনার জন্য আরও সময় বরাদ্দের পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি “স্বচ্ছ রাজনীতি ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।”