
উপনির্বাচন ও সাধারণ নির্বাচন ঘিরে নানা আলোচনার মধ্যেই বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় সেল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। দুই আসনের ভোট পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং শেষে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন।
সিইসি বলেন, ‘আমরা কন্ট্রোল রুম ভিজিট করতে আসলাম। আসন দুইটিতে ড্রোন থেকে শুরু করে সবকিছু ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্পূর্ণ সায়েন্টিফিক মেথডে আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে এটি মনিটর করছি। আমাদের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেমন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, এই নির্বাচনও যাতে অন্তত তার চেয়ে ভালো হয়, আমরা সেদিকে জোর দিয়েছি। সুন্দর ও স্মুথ নির্বাচনের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় শেরপুরে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ‘শেরপুর বর্ডারিং এলাকা। সেখানে আর্মিকে সীমান্ত থেকে কিছুটা দূরে থাকতে হয়। এজন্য আমরা সেখানে বিজিবি মোতায়েন বাড়িয়েছি। বিজিবিকে আমরা ইফেক্টিভলি ইউজ করছি। পাশাপাশি র্যাব, আনসার ও পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।’
ভোটের পরিবেশ সম্পর্কে সিইসি বলেন, ‘সকাল সাড়ে সাতটায় আমি প্রথম রিপোর্ট পাই। পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক আছে। মানুষ নির্বিঘ্নে আসছে এবং ভোট দিচ্ছে। সাধারণত উপ-নির্বাচনে ভোটার টার্ন আউট কম হওয়ার একটি প্রবণতা থাকে, তবুও দেখা যাক কী হয়। মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরছে।’
চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। ‘এটি আদালতের সাব-জুডিস ম্যাটার (বিচারাধীন)। আদালত যখন যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।’
এছাড়া সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ ও এ সংক্রান্ত মামলার বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব বিষয় আজকের নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকায় এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার চিঠিপত্র প্রসঙ্গে সিইসি জানান, এ বিষয়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আইন-কানুন ও নতুন অধ্যাদেশ পাসের বিষয় রয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা সরকারের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবো।’