
পদোন্নতি না পাওয়ার জেরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলি আকবর খান চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর হঠাৎ এই শীর্ষ কর্মকর্তার ঐচ্ছিক অবসর গ্রহণের বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশ সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্যটি সামনে আসে।
উক্ত প্রজ্ঞাপনে ঐচ্ছিক অবসর ও পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) আবেদনের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, ডিআইজি (অর্গানাইজড ক্রাইম) এবং সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বে থাকা আলি আকবর খান স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন। আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া তাঁর এক বছরের পিআরএল মঞ্জুরের উদ্দেশ্যে তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁর প্রেরিত সেই আবেদনটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সংযুক্ত করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ইচ্ছার প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী তাঁর ঐচ্ছিক অবসর গ্রহণ এবং আগামী ২ জুলাই থেকে এক বছরের পিআরএল কার্যকর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা যাচ্ছে।
এর আগে, মাত্র কয়েক দিন আগে গত ১ জুন পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ এই তদন্ত সংস্থাটির (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্বভার দেওয়া হয়েছিল আলি আকবর খানকে।
চাঁদপুর জেলায় ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া আলি আকবর খান ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কর্মজীবন শুরু করেন।
নিজের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি রেঞ্জ পুলিশ, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মক্ষেত্রে সততা, পেশাদারিত্ব ও কর্মদক্ষতার জন্য সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন মহলে তিনি বেশ সমাদৃত।
পেশাগত মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে আকবর খান দেশ ও বিদেশের মাটিতে বহুমুখী প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন। এর মধ্যে ইতালিতে সম্পন্ন হওয়া মানবপাচার রোধ ও বৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত কর্মশালা এবং মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত মানবপাচার ও অভিবাসী পাচার বিষয়ক আঞ্চলিক তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত কর্মশালা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি নিজের পেশাগত জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।