
দেশের ৬৮টি জেলা ও কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে কাটানো শিশুদের শৈশব কেমন কাটছে, তাদের প্রকৃত সংখ্যা কত এবং সামগ্রিক অবস্থা কী—তা জানতে চেয়েছেন দেশের উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত সব তথ্যের একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন আগামী দুই মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে কারা মহাপরিদর্শককে (আইজি প্রিজন) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি মো. জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারিসহ এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন ও এ সংক্রান্ত মতামত প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনটি যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের সুপরিচিত আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত সপ্তাহে জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন।
আজ আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট কামরুন নাহার মাহমুদ। আইনি লড়াইয়ে তাঁর সহযোগী হিসেবে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা আক্তার ও হোসনে আরা বেগম। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন।
শুনানি শেষে আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, কারাগারে অপরাধী কিংবা বিচারাধীন মায়েদের সঙ্গে থাকা নিষ্পাপ শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা, কল্যাণ ও তাদের সুষ্ঠু মানসিক ও শারীরিক বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্রসচিব, সমাজকল্যাণসচিব, কারা মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচজন বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারের ভেতরে মায়েদের সঙ্গে মোট ২৯৯ জন শিশু অবস্থান করছে। এই শিশুদের মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, কারাবন্দি এসব মায়েদের একটি বড় অংশই মাদক মামলার আসামি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি, আবার অনেকের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।