
ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক লেনদেন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশজুড়ে চলমান তুমুল আলোচনার মধ্যেই সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের একাধিক পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, বাবর নাকি এক বক্তব্যে বলেছেন—বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একাই ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ঋণ তুলে নিয়েছেন।
তবে স্পর্শকাতর এই দাবিটির নেপথ্যে কোনো বাস্তব সত্যতা বা নির্ভরযোগ্য ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফ্যাক্টচেক বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর চুলচেরা অনুসন্ধানে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, লুৎফুজ্জামান বাবর বাস্তবে সালাহউদ্দিন আহমদকে জড়িয়ে এমন কোনো মন্তব্যই করেননি। সম্পূর্ণ মনগড়া ও কোনো ধরনের দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই তাঁর নাম ব্যবহার করে এই গুজবটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে।
বিভ্রান্তিকর ওই পোস্টগুলো নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কথিত এই বক্তব্যের সপক্ষে কোনো মূল ধারার গণমাধ্যম, নির্ভরযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক সূত্র, বক্তব্যের অডিও-ভিডিও কিংবা ন্যূনতম কোনো প্রাসঙ্গিক রেফারেন্সের অস্তিত্ব নেই। এছাড়া সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঠিক কোথায়, কখন এবং কোন সুনির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে বা জনসভায় দাঁড়িয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত বড় অভিযোগ করলেন, সে সংক্রান্ত কোনো নূন্যতম তথ্যও সেসব পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।
সাধারণত জাতীয় রাজনীতি বা ব্যাংকিং খাতের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশের শীর্ষ স্তরের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কোনো মন্তব্য করলে তা দেশের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচারিত হয়। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এই বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়ার ব্যাপারে লুৎফুজ্জামান বাবরের কোনো বক্তব্য দেশের কোনো সংবাদপত্র, টেলিভিশন কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো অনলাইন পোর্টালে আসেনি।
অনুসন্ধানের গভীরতর ধাপে দেখা গেছে, প্রায় একই ধরনের একটি বানোয়াট বক্তব্য সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নামেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন তথ্য যাচাইয়েও প্রমাণিত হয় যে, ডা. শফিকুর রহমানও এমন কোনো মন্তব্য করেননি। মূলত, তিনি তাঁর একটি বাস্তব বক্তব্যে বলেছিলেন যে—এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণ হাতিয়ে নিয়েছে। জামায়াত আমিরের দেওয়া ‘এস আলম গ্রুপের ৮২ হাজার কোটি টাকা’র সেই বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রথমে ডা. শফিকুর রহমান এবং পরবর্তীতে লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘাড়ে বন্দুক রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামে ছড়ানো হচ্ছে।
সার্বিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানের পর এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে জড়িয়ে লুৎফুজ্জামান বাবরের নামে প্রচারিত ‘৮৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার’ দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নিছক একটি ডিজিটাল প্রোপাগান্ডা।