
দেশের সোনালি আঁশকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নতুন করে আর কোনো পাটকল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে না সরকার। তার বদলে সম্পূর্ণ বেসরকারি খাতের ওপর ভরসা করে, অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে এই খাতের বিকাশ ঘটানোই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের একটি লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই সংসদীয় অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে দেওয়া ওই লিখিত জবাবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পাটের ফলন ও গুণগত মান বাড়াতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বর্তমানে ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ’ নামের একটি বিশেষ প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করছে। চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখে এই প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। তবে প্রকল্প শেষ হলেও পাটের উন্নয়ন ধারা বজায় রাখতে পরবর্তীতে সরকারের নিজস্ব রাজস্ব বাজেটের তহবিল থেকে একই ধরনের কার্যক্রম চালু রাখার একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
বিগত সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং তা পুনরায় চালুর অগ্রগতি নিয়ে মন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন ২৫টি পাটকল ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি এক সিদ্ধান্ত মোতাবেক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব মিলের মধ্য থেকে ২০টি পাটকলকে বেসরকারি ইজারাদারদের (লিজ) মাধ্যমে আবার সচল করার উদ্যোগ নেয় সরকার।
চুক্তির হালনাগাদ তথ্য দিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, নির্ধারিত ২০টি মিলের মধ্যে ইতিমধ্যে ১৪টির ইজারা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্যে ৯টি পাটকল বর্তমানে পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। অবশিষ্ট মিলগুলোর ইজারা দেওয়ার আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বর্তমানে বিভিন্ন স্তরে চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই মিলগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তবে দেশের সিটি কর্পোরেশন এলাকার ভৌগোলিক সীমানায় থাকা এবং নানাবিধ আইনি জটিলতার কারণে বাকি ৫টি মিলকে এই ইজারা প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে বলেও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী সংসদকে অবহিত করেন।