
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই বিদ্যমান প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পথে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও করণীয়’ শীর্ষক অংশীজন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপটির আয়োজন করে ব্র্যাক এবং বি-স্ক্যান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়টি শুধু সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। গত চার মাসে তাদের উন্নয়ন ও অধিকার সুরক্ষায় সরকার বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বাস্তবায়নে অগ্রগতি হলেও এখনও অনেক কাজ বাকি। অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। এ লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং কর্মসংস্থানে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরিতেও কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
ড. এম এ মুহিত জানান, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সচিবদের সদস্য করে পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি এবং আইনি সুরক্ষা ও সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব। তিনি বলেন, আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সাম্প্রতিক পদক্ষেপে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় ইতিবাচক সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের ডিসএবিলিটি ইনক্লুশন ইউনিটের লিড জাহিদুল কবীর। প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গ্রহণযোগ্য পরিসংখ্যানের অভাব রয়েছে। ২০১৩ সালে আইন প্রণয়ন হলেও এর বাস্তবায়ন এখনও সন্তোষজনক নয়। কর্মপরিকল্পনায় ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবায়নে গতি কম, পাশাপাশি বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও জবাবদিহির অভাবও বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক অরিঞ্জয় ধর। সঞ্চালনা করেন বি-স্ক্যানের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব এবং স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভার্সিটি কর্মসূচির প্রধান মাসুমা বিল্লাহ।
সংলাপে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা এখনও দৃষ্টিভঙ্গিগত, পরিবেশগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধার মুখোমুখি হচ্ছেন। তাই নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নের প্রতিটি স্তরে তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, আইন সংশোধন এবং বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।