
বিগত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রশাসন ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী। তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা, দক্ষতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একটি দক্ষ ও সৎ প্রশাসন ছাড়া বাজেটের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য। দীর্ঘ প্রস্তুতি, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে বাজেট প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
আব্দুল বারী বলেন, বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা দূর, আর্থিক খাতের সংস্কার, ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনর্গঠন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতা এবং স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঙুর, অ্যাভোকাডো ও স্ট্রবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উন্নয়ন কর্মসূচির বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা প্রধানমন্ত্রী নিজেই তদারকি করছেন। উন্নয়ন ব্যয় সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, আয় ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং দেশ ধাপে ধাপে একটি উন্নত অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।